
JALAL UDDIN
আমার গ্রাম
হাজীরটেক: কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু ! কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের মানচিত্রকে যদি দুটি অংশে ভাগ করা হয়, তাহলে এক অংশে থাকবে হাজীরটেক, উলুকান্দী ও খালিয়ারচর, আর অন্য অংশে থাকবে ইউনিয়নের অবশিষ্ট এলাকা। এই অংশের মধ্যেই রয়েছে ইউনিয়নের সবচেয়ে বিস্তৃত ও উর্বর কৃষিজমি। স্থানীয়দের মতে, পুরো কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের মোট ভূমির প্রায় অর্ধেক এই অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর প্রায় ৮০ শতাংশই হাজীরটেক গ্রামের অন্তর্ভুক্ত। কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের দুটি চর এলাকা—পশ্চিম চর ও পূর্ব চর—থাকলেও সেখানে কৃষি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। আর কিছু ফসল উৎপাদিত হলেও পরিবহন সমস্যা, অতিরিক্ত খরচ এবং বাজারজাতকরণের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারেন না। এর বিপরীতে, হাজীরটেকের বিশাল উর্বর কৃষিজমিই ইউনিয়নের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনের মূল ভরসা। স্থানীয় ধারণা অনুযায়ী, ইউনিয়নের অধিকাংশ ধান এই এলাকার মাটি থেকেই উৎপাদিত হয়, যা কালাপাহাড়িয়ার খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। শুধু ধান নয়, এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের অর্থকরী ফসলও উৎপাদিত হয়। বছরের পর বছর কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে হাজীরটেকের মাঠগুলো সোনালি ফসলে ভরে ওঠে, যা ইউনিয়নের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও হাজীরটেক একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এই গ্রামে রয়েছে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, প্রবাসী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সফল কৃষকদের একটি বড় অংশ। ফলে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসী আয় এবং পেশাজীবীদের সম্মিলিত অবদানে গ্রামটি অনেকাংশেই অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ! হাজীরটেকের মানুষের পরিশ্রম, মেধা ও অবদান শুধু একটি গ্রামের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা পুরো কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথকে এগিয়ে নিয়েছে। শিক্ষা, কৃষি, অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাই বলা যায়, হাজীরটেক শুধু একটি গ্রাম নয়; এটি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষি উৎপাদন, অর্থনৈতিক শক্তি, মানবসম্পদ ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।!!!