
তারেকুল ইসলাম বাবলু
আবুল হোছাইনের বাঁ'র ঘোনা
সাল ২০১২-১৩, তখন আমার বয়স ৯-১০ এর ঘরে। আমাদের পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার পাশের পাহাড়ের সারি যার উচ্চতা ১৫০-২২০ মিটারের বেশি নই। এগুলো আমাদের ইউনিয়ন "হ্নীলা" এলাকার মানুষের কাছে এখনো আবুল হোছাইনের বাঁর ঘোনা আর্থাৎ আবুল হোছাইন সর্দারের বাবার ঘোনা/পাহাড় নামে পরিচিত। এই ঘোনার/ পাহাড়ের একটির নাম টুইন্না মুড়া নামে পরিচিত, ঘোনার এই ঢালটিতে সর্বত্রই বিশাল বিশাল জাম গাছের সারি যারা মাথা উঁচিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিত। আমরা গোষ্ঠীর ছেলেমেয়ে দল বেঁধে চলে যেতাম ঐ জাম সংগ্রহ করতে। এগুলো বুঝতে হলে এলাকাটা কেমন জান জরুরি হ্নীলার এই সিকদার পাড়ার ভূমির গঠনটা খুবই সুন্দর।পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে ক্রমশ ডালু তার মাঝে ১০০-২২০ মিটার উঁচচতার পাহাড় অবশ্য সবগুলোই মাটির পাহাড়। যা টারশিয়ারী যুগে সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। যাইহোক , যেই সময়ে ঐ ঘোনাগুলোতে আমাদের বিচরণ ছিল তখন ঘোনাগুলো ছিলো সম্পুর্ণ পশুপাখিদের অধিপত্যে ভরা, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে না আসতে পাখিদের কিচির-মিচির হৈ-হুল্লোড়ে নির্জন ঘোনাগুলো জীবন্ত হয়ে উঠত। প্রায় সময় অমরা দুপুর পর আমাদের বাসাবাড়ি থেকে দল বেঁধে রওনা দিতাম সবার হাতে থাকতো কিছু কিছু যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম, কারে হাতে লাঠি আবার কারো হাতে ধনুক, হয়তো ছুরি থাকতো। বসতি থেকে বের হয়ে প্রায় আধা মাইলের মতো সমতল বিলের মধ্য দিয়ে হেটে পাহাড়ের খিলায় পৌঁছে জিরোতাম।এরপর আরো ভিতরে চলে যাইতাম। এখানে পানির একমাত্র উৎস ছিলো ছড়া আর না হয় প্রাকৃতিক কুয়া। ছড়ার ঠান্ডা পানি পান করে আমরা আবার সতেজ হয়ে উঠতাম। ধনুক দিয়ে আমরা বেশিরভাগ সময় ঘুঘু শিকার করতাম। আমাদের দলে ১০-১২ জনের কম সংখ্যা থাকতো না, যদি কোনো ঘুঘু শিকার করা সম্ভব হতো তা মাঠিতে পাড়ার আগেই তুলে নিয়ে আসা হতো এরপর ছুরি দিয়ে জবে করে বেগে ভরা হতো। সপ্তাহে এই শিকার একবার হতো। একবারে ৪-৫ টা পাখি শিকার হতো এগুলো নিয়ে এসে সবাই রোস্ট করে খেতাম, মনে হয় এই স্বাদ এখনো মুখে রয়ে গেছে। এখন ঐ দিকে গেলে ঐ ঘোনা গুলো আর দেখা যাবে না এর এক এক তৃতীয়াংশ কেটে ফেলা হয়েছে গত ৮-৯ বছরের ভিতর। নতুন জনবসতি, নির্বিচারে পাহাড় আর গাছ কাটার ফলে আবুল হোছাইনের বাঁর ঘোনার মতো প্রাকৃতিক মনেরম দৃশ্য এখন শুধু অর্ধখন্ডিত,গাছবিহীন মাটির স্তুুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে।
