Amar Gram: Smart Platform: অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং গ্রামের সাথে সংযুক্ত থাকুন। 🌟Install now 

গ্রামের নতুন গল্প, ছবি ও অনুভূতি জানার জন্য Amar Gram নিউজফিডে ফিরে আসুন।

তানভির আহম্মেদ

তানভির আহম্মেদ

বাঘরূয়া

publicText only

শরতের এক অলস দুপুরে কংস নদীর পাড় ঘেঁষা ছোট্ট শান্ত গ্রাম 'বাঘরূয়া'-এ বাতাস যেন গান গাইছিল। এই গ্রামের জীবন চলে নদীর স্রোত এর ছন্দে। নদীর বুক চিরে যখন পাল তোলা নৌকা চলত, তখন ঘাটে বসে গ্রামের বধূরা কলসি কাঁখে গল্পে মেতে উঠত।বাঘরূয়া সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ তালুকদার সাহেব। তিনি প্রতিদিন বিকেলে নদীর পাড়ে এসে বসেন। নদীর দিকে তাকিয়ে তিনি তাঁর যৌবনের দিনগুলোর কথা ভাবেন। এই নদী যেমন তাদের জমি কেড়ে নিয়েছে ভাঙনে, তেমনি পলিমাটি দিয়ে আবার সোনার ফসলও ফলিয়েছে। নদীটাই তাদের সুখ-দুঃখের একমাত্র সাক্ষী।একবার বর্ষায় রূপসা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করল। প্রবল স্রোতে পাড় ভাঙতে শুরু করল। গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, কারণ নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে তাদের ঘরবাড়ি। গ্রামের তরুণ তানভীর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একজোট হলো। তারা বাঁশ আর বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিল। দিন-রাত এক করে গ্রামের সবাই মিলে নদীর পাড় রক্ষায় নেমে পড়ল। তানভীর এর এই উদ্যোগে তালুকদার সাহেব সেদিন বলেছিলেন, "নদী আমাদের মা, মা যেমন রাগ করলে আবার শান্ত হয়, আমাদের এই কংসও শান্ত হবে। তবে আমাদের লড়াই থামানো যাবে না।"অবশেষে তিন দিন পর নদীর পানি কমতে শুরু করল, আর বাঘরূয়া গ্রামটি বেঁচে গেল এক বড় বিপর্যয় থেকে। নদী আবার শান্ত হলো, আগের মতো ছোট ও বড় মাছ এর মেলা বসল নদীর বুকে।সন্ধ্যায় নদীর বুকে যখন চাঁদের আলো এসে পড়ে, তখন পুরো গ্রামটা যেন এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। কংস নদীর পাড় ঘেঁষা এই গ্রামের মানুষগুলো জানে, নদীর সঙ্গেই তাদের বাঁচা, আর নদীর বুকেই তাদের জীবনের সব গল্প লেখা থাকে।

0 লাইক0 মন্তব্য
0 শেয়ার20 ভিউ

এই পোস্টটি যে গ্রামের

🏡

বাঘরূয়া গ্রাম

গ্রামের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও দর্শনীয় স্থানের তথ্য দেখুন।

গ্রামের প্রোফাইল দেখুন

আরও পোস্ট

গ্রামের মানুষের লেখা আরও কিছু গল্প ও মুহূর্ত।

সব পোস্ট দেখুন