Explore the Digital Profile of Dulal, KonchibariSmart Village Bangladesh 🇧🇩 | Online Smart Village

দুলাল গ্রাম
দুলাল – একটি আদর্শ গ্রাম | আমার শেকড়, আমার গর্ব
কঞ্চিবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
দুলাল গ্রাম সম্পর্কে মতামত দিন
গ্রামের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়নের তথ্য জানতে এই জরিপে অংশ নিন।
এক নজরে দুলাল
- জনসংখ্যা
- ১০০০০+
- আয়তন
- ৮ বর্গ কিমি
- ওয়ার্ড
- ৯ নং
- প্রতিষ্ঠান
- ২টি
ইতিহাস
মাতৃভূমি মানুষের কাছে স্বর্গবিশেষ। আমার গ্রাম আমার কাছে স্বর্গ। আমার জন্ম গ্রামে। আমার গ্রামের চেয়ে পবিত্র আর কিছু নেই। যেখানে আমার জন্ম, সেই গ্রামের জল আমার তৃষ্ণা মিটিয়েছে, খেতের ফসল ক্ষুধা দূর করেছে, পাখির কলকাকলি আমার ঘুম ভাঙিয়েছে, মুক্ত বাতাস আমার প্রাণ জড়ানো আমার গ্রাম। আমার গ্রামের নাম দুলাল। গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে মনরঞ্জন খাল। পূর্ব পাশ দিয়ে গেছে গাইবান্ধা -কুড়িগ্রাম বিশ্বরোড। গাইবান্ধা জেলায় ছায়াময় মায়াময় এ-গ্রাম। খালটি উত্তর-দক্ষিণে আট কিমি লম্বা।
গ্রাম্য জীবন
আমাদের গ্রামে প্রায় দশ হাজার লোক বাস করে। এ-গ্রামে সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সবার মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট।আমাদের গ্রামের মানুষ ভালো কাপড়চোপড় পরে। পুরুষেরা লুঙ্গি, পাজামা, পাঞ্জাবি, শার্ট এবং মেয়েরা সালোয়ার, কামিজ, শাড়ি পরে।
শিক্ষা ও উন্নয়ন
আমাদের গ্রামে চার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের প্রথম পাঠ শুরু করে। প্রাথমিক পাঠ শেষ করে ভর্তি হয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আমাদের গ্রামে একটি স্বেচ্ছাসেবক নৈশ বিদ্যালয় আছে। যারা লেখাপড়া জানেন না, গ্রামের শিক্ষিত যুবকেরা তাদের সন্ধ্যার পর লেখাপড়া শেখান। আমাদের গ্রামে কোনো নিরক্ষর লোক নেই।
কৃষি
প্রধান ফসল ধান। আমাদের গ্রামে প্রচুর ধান হয়। এ ছাড়াও উৎপন্ন হয় পাট, গম, ডাল, সরিষা, তিল, আখ এবং নানারকম শাকসবজি। প্রচুর পরিমাণে গাভীর দুধ পাওয়া যায়। পুকুর, খাল প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। সব বাড়িতেই হাঁস-মুরগি পালন করা হয়। বাগানে আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, নারকেল, জাম, সুপারি, তাল, বেল, হরীতকী, আমলকী ইত্যাদি পাওয়া যায়। গ্রামের মানুষের নিজেদের খাবারের জন্য যা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই গ্রামে উৎপন্ন হয়।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
আমাদের গ্রামে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তেমনি রয়েছে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও। যেমন- ক্লাব, কমিউনিটি চিকিৎসালয়।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ
- আমাদের গ্রামে একটি বড় হাট আছে। সপ্তায় দুইদিন সেখানে হাট বসে। হাটবার হলো: শনিবার ও মঙ্গলবার। হাটের দিন অনেক দূর থেকে বহু ক্রেতা-বিক্রেতা আসে। হাটে চাল, আলু, বেগুন, পটল, পাট, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি প্রায় সবধরনের জিনিসপত্র বেচাকেনা হয়। গ্রামে প্রতিদিন সকালে বাজার বসে। মাছ, দুধ, শাকসবজিসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিস এখানে পাওয়া যায়।
পেশা
- আমাদের গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়িতে উচ্চশিক্ষিত লোক রয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চপদে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের বাইরেও অনেকে কর্মরত। যাঁরা গ্রামে বসবাস করেন, তাঁদের কেউ কৃষক, কেউ-বা ব্যবসায়ী। এ ছাড়া নানান পেশার লোক রয়েছে আমাদের গ্রামে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উকিল, তাঁতি, জেলে, কামার, কুমার, সুতোর।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো
- প্রকৃতি যেন তার আপন খেয়ালে আমাদের গ্রামটি সাজিয়েছে। যেদিকেই তাকানো হোক না কেন, সেদিকেই সবুজ আর সবুজ। আম, জাম, কাঁঠাল, জামরুল, বাতাবি, বেল, কুল, পেয়ারা, কদম, শিরিশ কড়ই, চাম্বল, মেহগনি, শিশুকাঠসহ নানারকমের গাছ গ্রামকে ছায়াময় করে তুলেছে। মাঠভরা শস্যখেতের উপর দিয়ে যখন বাতাস বয়, মনে হয় যেন সবুজ সমুদ্রে ঢেউ উঠেছে।
প্রযুক্তি ও উন্নয়ন
- অর্থনৈতিক দিক থেকে আমাদের গ্রাম সচ্ছল। গ্রামের সবাই স্বনির্ভর বলে চুরি-ডাকাতি খুন-খারাবির কোনো বালাই নেই। গ্রামের শতভাগ লোকের অক্ষরজ্ঞান থাকায় কোনো রকমের কুসংস্কারও নেই।
গ্রামের প্রতিটি বাঁশঝাড়, ক্ষেত-খামার, পুকুর আর কাঁচা রাস্তা বয়ে নিয়ে চলে আমাদের শেকড়ের গল্প।
“আমাদের শেকড়, আমাদের গর্ব — দুলাল”



