Amar Gram: Smart Platform: অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং গ্রামের সাথে সংযুক্ত থাকুন। 🌟Install now 

গ্রামের নতুন গল্প, ছবি ও অনুভূতি জানার জন্য Amar Gram নিউজফিডে ফিরে আসুন।

mohammod maminul Islam

mohammod maminul Islam

এলাহাবাদ-

publicText only

পাড় হওয়া নিয়ে আমার কোন চিন্তা ছিল না। অঅমার মা ছিলেন নানার বড় মেয়ে। বাকি ৪ জন খালা বাড়িতেই থাকতেন। তারা কেউ দেখলে দৌড়ে এসে আমাকে কোলে নিতেন। এব্যাপারে মনোয়ারা খালার কথা বিশেষ ভাবে মনে পড়ে। ওরে বইন পুতরে তুই এই রইদরা দিয়া ক্যামনে আইছতরে-বলেই আমাকে নিয়ে যেতেন। নানা ভারতের দেওবনন্দ থেকেআরবী লাইনে লেখপড়া করে আসলেও বাড়িতেই থাকতেন, জুম্মার মসজিদে ঈমমিতি করতেন,জমি চাষাবাদ করতেন।বড় মামা চান্দিনা ব্যবসা করতেন। মামার সাথে চান্দিনা যাওয়ার আব্দার করলে তিনি মাঝে মাঝে রক্ষা করতেন।সেখানে গিয়েই প্রথম মোটর গাড়ি দেখি। মামার দোকান থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম বিশ্বরোড দেখা যেত।ছোট মামার সাথে বাজারের ভেতরে ঘুরতে গিয়ে দেখি এক যায়গায় বহু মানুষের ভিড় দেখে থমকে দাড়ালাম। প্রথমে মনে হলো কোন যাদুকর হয়তো খেলা দেখাচ্ছে।পরে ভাবলাম এটি দুধের হাট। কারণ এলাহাবাদ বাজারে বটগাছের নীচে দুধ বিক্রেতারা গোল হয়ে মাটির হাড়িতে করে দুধ এনে বিক্রি করতো।একটু এগিয়ে দেখি একজন লোক ব্যাগের মধ্যে কি যেন পুরাচ্ছে। মামা বলে­ন দেখ কত বড় কাছিম। অন্যরাও বলছে মাত্র ৪০০ টাকায় এতবড় জলখাসিটি নিয়ে গেল ? মামা বলে­ন –কাছিম হচ্ছে কচ্ছবের বড় ভাই। তখন মনে পড়লো কত কচ্ছব ( বরশিতে লাগার)অঅমরা বড়ইটি মুক্ত করার অঅশায় ঝুয়ে ঝুলিয়ে হদেবেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে নিয়ে ছি। অঅর েএই কাটুম দেখি বিক্রি হয়। অঅমাদের এলাকায় এর হাট থাকলে নেই কেন ? এ নিয়ে অঅফসোস হতে লাগলো। পরে শুনেছি শুধু মাত্র হিন্দুরাই এ প্রানির মাংশ খায়। চান্দিনা থেকে অঅবার মামার বাড়ি গিয়ে দেখি অনেক হৈ চৈ ।একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি রাখাল মামাকে কয়েকজন লোক পায়ে ধরে টেনে হিচড়ে কোমর পানির পুকুরে ঘোড়াচ্ছে। বুঝতে পারলাম অঅমাদের জন্য গাছ থেকে জাম পাড়ার সময় দতিন গাছ থেকে পড়ে গিয়েছেন। কেই বলছে শয়তান ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। যাক অনেকক্ষন পর পরিস্থিতি শ্ন্ত হলে। অঅল­অহবাচিয়েছে বড় ধরণের কোন যখম হয়নি। তবে মুর“ব্বীরা বলা বলি করছে-সাথে ঢাল ভেঙ্গে পড়ার সাথে সাথে পানিতে এ ব্যায়ামটি না করালে সমস্যা হতো। মায়ের মুখে শুনেছি-বড় মামা বিএ পরীক্ষার পূর্বে একবার রাতে পড়ার সময় বই রিভিশন দিচ্ছিলেন, নানা ও ঘুমান নি ,তিনি কিছুক্ষ্ণ পর পর এসে নানা বলতে থাকেন, শামসসু অনেক রাত হয়েছে, এবার ঘুমাও। মামা বলতেন অঅব্বা আরে কয়েকটা চাপ্টার রিভিশন দিয়ে নেই। ঘুমিয়ে পড়বো। এভাবে পড়তে পড়তে কিছুক্ষণ পর আল­াহ অঅকবর বলে মুয়াজ্জিন অঅযান দিয়ে ফেল­।এভাবে সে রাতে মামা ও নানা কেউ ঘুমান নি। তখন থেকেই অঅমার মনে চেতনা জাগে –মামার মতো অঅমাকেও বিএ পাশ করতে হবে। কেননা তখন অঅমার অঅত্মীয় –স্বজনদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি লেখপাড়া জানা লোক।নানা সবসময় কোরান-তাসবিহ এত্যাদি নিয়ে থাকতেন। মাঝে মাঝে পানি পড়া নেয়ার জন্য অনেক লোক আসতেন।নানার একটি নলখাগড়া বা বাশেঁর কঞ্চির কলম ছিল। একটি বাটিতে রাখা খোলা কালিতে চুবিয়েতা দিয়ে মাঝে মাঝে হারিকেন জ্বালিয়ে রাতের বেলা লিখতেন।মামার বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে কালো রঙ্গের বিড়াল বেড়ার উপর দিয়ে ঘরে আসতে দেখতাম।বিড়ালটি ঘরে আসার পর কারো মুখে কোন কথা থাকতো না। বিড়ালটি শুধমাত্র রাতের অন্ধকারে আসে কেন ? জিজ্ঞেস করেও কারো কাছ থেকে কোন জবাব পাইনি।পরে শুনেছি নানীর পেটের ব্যাথার ঔষধ এ বিড়ালটি কলা গাছের পাতায় ‍মুড়ে নিয়ে এসে বালিশের নীচে প্রতিদিন রেখে যেত। জ্বীনের মাধ্যমে আনা ঔষধ খেয়ে নাকি পেট ব্যাথা ভাল হয়ে গিয়েছিল। নানী নামাজ পড়ার সময় তার জায়নামাজের পাশে বসে থাকতাম। তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজ আদায় করতেন।তিনি আলহামদু সুরা বার বার পড়তেন। বুবুর কাছে শুনেছি বয়স হওয়ার কারণে একটি বাক্য বার বার আওড়াতেন।কিছুদিন পর নানী মারা গেলেন। কয়েক বছর আগে মা মারা যাওয়ার পর আর মামার বাড়ি যাওয়া হয়নি। লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক, কলাম লেখক ও ধর্মীয় গবেষক, কুমিল্লা।

2 লাইক0 মন্তব্য
1 শেয়ার67 ভিউ

এই পোস্টটি যে গ্রামের

🏡

এলাহাবাদ- গ্রাম

গ্রামের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও দর্শনীয় স্থানের তথ্য দেখুন।

গ্রামের প্রোফাইল দেখুন

আরও পোস্ট

গ্রামের মানুষের লেখা আরও কিছু গল্প ও মুহূর্ত।

সব পোস্ট দেখুন