
mohammod maminul Islam
এলাহাবাদ-
শৈশবের বিশ্বকাপ স্মৃতি ও ম্যারাডোনার জাদুর গোল ।। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কথা মনে হলে আজও আমার শৈশবের সেই দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তখন আমার বয়স ১২ বছর। আমি মোঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে পিতা-মাতা, বড় ভাই মনির এবং ছোট ভাই আমিনকে নিয়ে আমাদের ছোট্ট সংসার ছিল। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তখনকার দিনে আমাদের কাছে আসল ফুটবল কেনা সহজ ছিল না। তাই আমরা পুরোনো খাতার লেখা শেষ হওয়া পৃষ্ঠা, কাগজ ও কচি বাঁশ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে পুটলির মতো বল বানাতাম। সেই কাগজের বল দিয়েই আমরা তিন ভাই—আমি, মনির আর আমিন—গ্রামের মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলতাম। বিশ্বকাপ শুরু হলে আমাদের খেলা যেন আরও বাস্তব হয়ে উঠত। চার্ট দেখে ঠিক করতাম কোন দেশ আজ খেলবে, তারপর দুই দলে ভাগ হয়ে সেই দেশগুলোর নাম নিয়ে মাঠে নেমে যেতাম। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভূঁইয়া বাড়িতে একটি ব্যাটারিচালিত টেলিভিশন ছিল। তখন গ্রামে টেলিভিশন ছিল খুবই বিরল। তাই বৃষ্টি, অন্ধকার রাত এবং ভয়কে উপেক্ষা করে আমরা সেখানে হেঁটে যেতাম খেলা দেখার জন্য। সেই ছোট্ট টেলিভিশনের সামনে বসে পুরো গ্রাম যেন এক হয়ে যেত। সেই বিশ্বকাপে আমার প্রিয় দল ছিল পশ্চিম জার্মানি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ায় আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। প্রিয় দলের এই পরাজয় আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল, যদিও খেলার উত্তেজনা ও আনন্দ আজও মনে গেঁথে আছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলও ছিল অন্যতম আলোচিত দল। তাদের দলে সক্রেটিস, জিকো, কারেকা এবং জুনিয়র ছিলেন সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে। ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে স্পেন, আলজেরিয়া ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যায়। এরপর পোল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে তারা বিদায় নেয়। যদিও তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, তাদের খেলা ছিল চোখ জুড়ানো। আর ব্রাজিলের ইতিহাস শুনে আমি ছোটবেলা থেকেই তাদের ভক্ত হয়ে যাই। বড় ভাই মনির আমাকে বলেছিল ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল কিভাবে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই দলে পেলে, জাইরজিনহো ও কার্লোস আলবার্তোর মতো কিংবদন্তিরা ছিলেন। তাদের খেলার সৌন্দর্য, আক্রমণাত্মক স্টাইল আর দলীয় সমন্বয় আমাকে ব্রাজিলের প্রতি আরও আকৃষ্ট করে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এশিয়া থেকে ইরাক ও দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নেয়। ইরাক ছিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে, আর দক্ষিণ কোরিয়া একটি ড্র করলেও কেউই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারেনি। আজ এত বছর পরও সেই মেক্সিকো ’৮৬ বিশ্বকাপ আমার কাছে শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়; এটি শৈশবের কাগজের বলের খেলা, ভাইদের সঙ্গে দুষ্টুমি, ভূঁইয়া বাড়ির টেলিভিশনের সামনে ভিড়, ভয়ভরা বৃষ্টির রাত আর ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক অমূল্য স্মৃতি। লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা।।https://wwwmaminmollahblogcom.blogspot.com/?m=1

Viral News Bd
ভাইরাল নিউজ বিডি VIRAL NEWS BD
https://wwwmaminmollahblogcom.blogspot.com/