Amar Gram: Smart Platform: অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং গ্রামের সাথে সংযুক্ত থাকুন। 🌟Install now 

🏛️ সরকারি অনুদান ও বরাদ্দ

আপনার গ্রামে কী এসেছে — জানুন, জানান, লিখে রাখুন

গ্রামে শুধু চাঁদার টাকা আসে না — সরকারি বরাদ্দ ও সহায়তাও আসে। সেগুলোর নিজস্ব রেকর্ড না থাকলে কয়েক বছর পর কেউ আর বলতে পারে না কোন কাজ কোন টাকায় হয়েছিল। এই পাতায় আছে কোন বরাদ্দ কীভাবে আসে, কীভাবে জানবেন আপনার গ্রামে কী এসেছে, আর কীভাবে তা গ্রামের খাতায় লিখে রাখবেন।

💭 কেন এটা জরুরি

একটি রাস্তা পাকা হলো, একটি কালভার্ট বসল, ঈদের আগে কিছু পরিবার চাল পেল — গ্রামের মানুষ দেখেন, কিন্তু কেউ লিখে রাখেন না। পাঁচ বছর পর যখন কেউ জিজ্ঞেস করেন “ওই রাস্তাটা কীসের টাকায় হয়েছিল?”, তখন উত্তরটা থাকে কেবল কারও স্মৃতিতে।

এই ফাঁক থেকেই দুটো সমস্যা জন্মায়। এক, যিনি সৎভাবে কাজ করেছেন তিনিও সন্দেহের মুখে পড়েন, কারণ প্রমাণ দেখানোর কিছু নেই। দুই, পরের বছর নতুন বরাদ্দ চাইতে গেলে আগের কাজের কোনো নথি থাকে না।

সমাধান জটিল কিছু নয় — কোন বছর কী এসেছিল আর কোথায় খরচ হয়েছিল, সেটুকু গ্রামের খাতায় লিখে রাখা। সরকারি দপ্তরের নথির বিকল্প নয়, গ্রামের নিজের একটি কপি।

উন্নয়ন ও অবকাঠামো বরাদ্দ

রাস্তা, কালভার্ট, মসজিদ, ঈদগাহ ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজে যেসব বরাদ্দ গ্রামে আসে।

গ্রাম পর্যায়ের উন্নয়ন বরাদ্দ
বিষয়কী কাজে লাগেকোন পথে আসে
টিআর (টেস্ট রিলিফ)গ্রামীণ রাস্তা, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান ও ছোট অবকাঠামো সংস্কারদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় → উপজেলা → ইউনিয়ন পরিষদ
কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য)মাটির রাস্তা, বাঁধ ও নালা সংস্কারে শ্রমিকের মজুরি খাদ্যশস্যেপ্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ হয়
কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা)একই ধরনের কাজ, তবে মজুরি নগদ অর্থেউপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তদারকিতে
এলজিএসপি থোক বরাদ্দওয়ার্ড সভার সিদ্ধান্তে নেওয়া স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পস্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে
উপজেলা এডিপিবার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোউপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে বরাদ্দ হয়
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদানমসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার উন্নয়নে সহায়তাধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে
দুর্যোগকালীন ত্রাণবন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অগ্নিকাণ্ডে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনজেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা

পরিবার ও ব্যক্তিভিত্তিক সহায়তা

যেসব সহায়তা সরাসরি পরিবার বা ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় — এগুলোর তালিকা তৈরি হয় ইউনিয়ন পর্যায়ে।

সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচি
বিষয়কী ধরনের সহায়তাকোন দপ্তর দেখে
ভিজিডিদুস্থ নারীদের নিয়মিত খাদ্য সহায়তা ও প্রশিক্ষণমহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর; তালিকা হয় ইউনিয়ন কমিটিতে
ভিজিএফঈদ ও দুর্যোগের সময় বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তাত্রাণ শাখা; বিতরণ ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা ধরে
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিনির্ধারিত পরিবারকে স্বল্পমূল্যে চালখাদ্য অধিদপ্তর ও নিযুক্ত ডিলার
টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডভর্তুকি মূল্যে তেল, ডাল ও নিত্যপণ্যটিসিবি; কার্ড বিতরণে ইউনিয়ন পরিষদ যুক্ত থাকে
বয়স্ক ভাতানির্ধারিত বয়সের দরিদ্র নাগরিকদের মাসিক ভাতাসমাজসেবা অধিদপ্তর; টাকা যায় মোবাইল হিসাবে
বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা ভাতাঅসহায় নারীদের মাসিক ভাতাসমাজসেবা অধিদপ্তর; বাছাই ইউনিয়ন কমিটিতে
প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রতিবন্ধী নাগরিকদের মাসিক ভাতাসুবর্ণ নাগরিক কার্ড ও সমাজসেবা অধিদপ্তর
মাতৃত্বকালীন ভাতাগর্ভবতী ও দরিদ্র মায়েদের সহায়তামহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর
শিক্ষা উপবৃত্তিপ্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিশিক্ষা মন্ত্রণালয়; অর্থ যায় অভিভাবকের মোবাইলে
কৃষি প্রণোদনাবীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সহায়তাকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর; তালিকা করেন উপসহকারী কর্মকর্তা
গৃহায়ণ সহায়তাগৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণউপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে
⚠️ অঙ্ক কেন লেখা হয়নি

উপরের কোনো তালিকাতেই টাকার অঙ্ক, চালের পরিমাণ বা ভাতার হার লেখা হয়নি — ইচ্ছাকৃতভাবে। এই সংখ্যাগুলো প্রতি অর্থবছরে প্রজ্ঞাপনে বদলায়। পুরোনো অঙ্ক ভরসা করে কেউ পরিষদে গিয়ে দাবি করলে অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি হয়। বর্তমান হার সবসময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই জেনে নিন।

বরাদ্দ গ্রামে যেভাবে পৌঁছায়

পথটা জানা থাকলে কোন ধাপে কার কাছে খোঁজ নিতে হবে তা বুঝতে সুবিধা হয়।

  1. ০১

    বরাদ্দ আসে উপজেলা হয়ে

    মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ যায় জেলা ও উপজেলায়, সেখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদে ভাগ হয়। প্রতিটি অর্থবছরে এই বণ্টনের একটি লিখিত হিসাব থাকে।

  2. ০২

    ওয়ার্ড সভায় প্রকল্প ঠিক হয়

    ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী ওয়ার্ড সভা একটি উন্মুক্ত সভা — যেকোনো গ্রামবাসী উপস্থিত থেকে মতামত দিতে পারেন। কোন রাস্তা, কালভার্ট বা কাজ হবে তা এখানেই ঠিক হয়।

  3. ০৩

    প্রকল্প কমিটি গঠিত হয়

    টিআর বা কাবিখার কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠিত হয়, যার সভাপতি সাধারণত ওই ওয়ার্ডের সদস্য বা স্থানীয় কেউ হন।

  4. ০৪

    উপকারভোগীর তালিকা হয়

    ভিজিডি, ভিজিএফ বা ভাতার ক্ষেত্রে বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগে সাধারণত তা প্রকাশ্যে টাঙানোর নিয়ম আছে।

  5. ০৫

    কাজ হয়, বিল পরিশোধ হয়

    কাজ শেষে পরিমাপ ও প্রতিবেদন দাখিলের পর অর্থ ছাড় হয়। ভাতার ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল হিসাবে যায়।

  6. ০৬

    কিন্তু গ্রামের কাছে কোনো কপি থাকে না

    সরকারি দপ্তরে নথি থাকে ঠিকই, গ্রামের নিজের কাছে কিছুই থাকে না। কয়েক বছর পর কেউ আর বলতে পারেন না কোন কাজটি কোন বরাদ্দে হয়েছিল — এই ফাঁকটাই পূরণ করা দরকার।

আপনার গ্রামে কী এসেছে — কীভাবে জানবেন

তথ্য জানতে চাওয়া নাগরিকের অধিকার। নিচের যেকোনো পথে শুরু করতে পারেন।

🗳️

ওয়ার্ড সভায় উপস্থিত থাকুন

এটি উন্মুক্ত সভা, যেকোনো গ্রামবাসী যেতে পারেন। বরাদ্দ ও প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত এখানেই হয় — জানার সবচেয়ে সহজ জায়গা এটিই।

📌

ইউপি কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড

উপকারভোগীর তালিকা ও প্রকল্পের তথ্য সাধারণত পরিষদ কার্যালয়ে টাঙানো থাকে। ছবি তুলে রাখলে পরে মিলিয়ে দেখা যায়।

🧑‍💼

নিজের ওয়ার্ড সদস্যকে জিজ্ঞেস করুন

আপনার ওয়ার্ডে কী বরাদ্দ এসেছে তা জানার অধিকার আপনার আছে। সরাসরি ও ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করলে সাধারণত জানানো হয়।

🏢

উপজেলা পিআইও অফিস

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার প্রকল্প তালিকা থাকে।

📄

তথ্য অধিকার আইনে আবেদন

মৌখিকভাবে না পেলে লিখিত আবেদন করা যায়। এটি নাগরিকের আইনি অধিকার, অনুগ্রহ নয়।

☎️

৩৩৩-এ ফোন করুন

সরকারি সেবা ও তথ্যের জাতীয় হেল্পলাইন। কোন সেবা কোথায় পাবেন তা জানার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

তথ্য অধিকার আইনে যেভাবে জানতে চাইবেন

মৌখিকভাবে তথ্য না পেলে লিখিত আবেদনের আইনি পথ খোলা আছে।

  1. ০১

    আবেদন ফরম ‘ক’ পূরণ করুন

    তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। কী তথ্য চান তা স্পষ্ট করে লিখুন — যেমন “২০২৪-২৫ অর্থবছরে অমুক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে টিআর বরাদ্দের প্রকল্প তালিকা”।

  2. ০২

    দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিন

    প্রতিটি সরকারি দপ্তরে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকেন। ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরেই আবেদন জমা দিতে হয়। জমা দেওয়ার রসিদ নিতে ভুলবেন না।

  3. ০৩

    নির্ধারিত সময়ে জবাবের অপেক্ষা

    আইনে জবাব দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। তথ্য দিতে অস্বীকার করলে কারণ লিখিতভাবে জানানোর বাধ্যবাধকতাও আছে।

  4. ০৪

    না পেলে আপিল করুন

    সময়মতো জবাব না পেলে বা অসন্তুষ্ট হলে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে, এরপর প্রয়োজনে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি নাগরিকের জন্য সহজ রাখা হয়েছে।

📣

আপনার গ্রামে কী এসেছে, আমাদের জানান

আপনি যদি জানেন আপনার গ্রামে কোন বছর কোন প্রকল্প বা সহায়তা এসেছিল — সেটি গ্রামের প্রোফাইলে জানিয়ে দিন। অ্যাডমিন যাচাই করে গ্রামের খাতায় তুলে নেবেন। এভাবে একজন একজন করে গ্রামের নিজস্ব বরাদ্দের ইতিহাস তৈরি হয়ে যায়।

খাতায় যা যা লিখে রাখবেন

সব ঘর পূরণ করতে না পারলেও অসুবিধা নেই — যতটুকু জানেন ততটুকুই লিখে রাখুন।

  • প্রকল্প বা সহায়তার নাম

  • অর্থবছর (যেমন ২০২৪-২৫)

  • বরাদ্দের উৎস — টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি ইত্যাদি

  • কোন ওয়ার্ড বা পাড়ায় কাজটি হয়েছে

  • কাজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  • কাজ শুরু ও শেষের সময়

  • প্রকল্প কমিটিতে কারা ছিলেন

  • কাজের আগে ও পরের ছবি

  • কতজন পরিবার উপকৃত হয়েছেন (সংখ্যায়)

  • কোনো অসম্পূর্ণ কাজ থাকলে তার নোট

যা কখনো করবেন না

স্বচ্ছতা মানে সব কিছু প্রকাশ করা নয় — কিছু জিনিস গোপন থাকাই সম্মানের।

  • উপকারভোগীর নাম, ছবি বা এনআইডি প্রকাশ্যে দেওয়া

  • যাচাই ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ লিখে দেওয়া

  • নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দোষারোপ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ

  • রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচার চালানো

  • শোনা কথা বা গুজবকে তথ্য হিসেবে লেখা

  • টাকার অঙ্ক আন্দাজে বসিয়ে দেওয়া

লিখে রাখলে যা যা বদলায়

  • কোন বছর কোন প্রকল্পে কত বরাদ্দ এসেছিল, তার নিজস্ব রেকর্ড থাকে

  • একই পরিবার বারবার তালিকায় পড়া বা প্রকৃত দরিদ্র বাদ পড়া কমে

  • কোন রাস্তা কবে কোন বরাদ্দে হয়েছিল, পরে খোঁজ নিতে হয় না

  • গ্রামবাসী জানেন কাজটি সরকারি টাকায় হয়েছে না গ্রামের চাঁদায়

  • নতুন কমিটি এলে আগের প্রকল্পের ধারাবাহিকতা হারায় না

  • পরের বছরের বরাদ্দ চাইতে গেলে আগের কাজের প্রমাণ হাতে থাকে

  • গুজব ও সন্দেহ কমে, কারণ তথ্য যাচাই করা যায়

  • গ্রামের উন্নয়নের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস তৈরি হয়

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আমার গ্রামে কী কী সরকারি বরাদ্দ এসেছে, কীভাবে জানব?+

সবচেয়ে সহজ উপায় ওয়ার্ড সভায় উপস্থিত থাকা — এটি উন্মুক্ত সভা এবং বরাদ্দ নিয়ে সিদ্ধান্ত সেখানেই হয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড, নিজের ওয়ার্ড সদস্য, উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর — সব জায়গা থেকেই জানা যায়। মৌখিকভাবে না পেলে তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদন করার অধিকার আপনার আছে।

আমার গ্রামে যা এসেছে তা আমি কোথায় জানাব?+

গ্রামের প্রোফাইলে গিয়ে রিপোর্ট ও মতামতের অপশনে জানাতে পারেন। গ্রামের অ্যাডমিন সেটি যাচাই করে গ্রামের খাতায় তুলে নেন। এতে ধীরে ধীরে গ্রামের নিজস্ব একটি বরাদ্দের ইতিহাস তৈরি হয়ে যায়।

আমার গ্রাম কি সরকারি অনুদান দেয় বা বিতরণ করে?+

না। বরাদ্দ দেওয়া, উপকারভোগী বাছাই করা বা কিছু বিতরণ করা — এর কোনোটিই আমার গ্রাম করে না। এগুলো সম্পূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের এখতিয়ার। এই প্ল্যাটফর্ম শুধু গ্রামের নিজের খাতায় হিসাব লিখে রাখার ব্যবস্থা দেয়।

উপকারভোগীদের নাম কি প্রকাশ্যে চলে যাবে?+

না। কে সহায়তা পেয়েছেন তা প্রকাশ্যে দেখানো হয় না — এটি সম্মানের প্রশ্ন। প্রকল্প, অর্থবছর ও সংখ্যার হিসাব প্রকাশ করা যায়, কিন্তু ব্যক্তির নাম, ছবি বা পরিচয় নয়।

ওয়ার্ড সভা কী, সেখানে যেতে কি অনুমতি লাগে?+

ওয়ার্ড সভা ইউনিয়ন পরিষদ আইনে স্বীকৃত একটি উন্মুক্ত সভা, যেখানে ওয়ার্ডের বাসিন্দারা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মতামত দিতে পারেন। আলাদা অনুমতি লাগে না — সভার তারিখ জেনে উপস্থিত হলেই হয়।

তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে কি সমস্যা হতে পারে?+

এটি নাগরিকের আইনি অধিকার, কোনো অভিযোগ নয়। আবেদন করার কারণে কেউ হয়রানি করলে সেটিই বরং আইনবিরোধী। আবেদন যত সুনির্দিষ্ট হয় — অর্থবছর, ওয়ার্ড ও প্রকল্পের ধরন উল্লেখ করে — জবাব পাওয়া তত সহজ হয়।

পুরোনো বছরের বরাদ্দের হিসাব কি এখন তোলা যাবে?+

যাবে। যতটুকু তথ্য পাওয়া যায় ততটুকু দিয়েই শুরু করুন — প্রকল্পের নাম, বছর ও কাজের বিবরণ। প্রবীণ গ্রামবাসী ও সাবেক কমিটির সদস্যরা অনেক কিছু মনে করতে পারেন। অসম্পূর্ণ রেকর্ডও কিছু না থাকার চেয়ে ভালো।

টাকার অঙ্ক না জানলে কি লিখে রাখা যাবে?+

যাবে, এবং সেটিই নিরাপদ। অঙ্ক নিশ্চিত না হলে খালি রাখুন — আন্দাজে সংখ্যা বসানোর চেয়ে প্রকল্পের নাম, বছর ও কাজের বিবরণ লিখে রাখাই বেশি কাজে লাগে।

আরও জানুন

এই বছরের হিসাব দিয়েই শুরু করুন

পুরো অতীত এক দিনে তোলার দরকার নেই। চলতি অর্থবছরে আপনার গ্রামে কী এসেছে, সেটুকু লিখে রাখলেই শুরুটা হয়ে যায়।

আমার গ্রাম কোনো সরকারি বরাদ্দ দেয় না বা বিতরণ করে না — শুধু গ্রামের নিজস্ব রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা।