Amar Gram: Smart Platform: অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং গ্রামের সাথে সংযুক্ত থাকুন। 🌟Install now 

গ্রামের নতুন গল্প, ছবি ও অনুভূতি জানার জন্য Amar Gram নিউজফিডে ফিরে আসুন।

mohammod maminul Islam

mohammod maminul Islam

এলাহাবাদ-

public1 media

শিক্ষার আলো ছড়ানো আব্দুর রাজ্জাক আর নেই মমিনুল ইসলাম মোল্লা মুরাদনগর, কুমিল্লা প্রতিনিধি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবার অন্যতম পথিকৃৎ, বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক (বি.কম) আর নেই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ১৯৩৭ সালের ৩০ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় তিনি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তাঁর উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। শিক্ষার আলো ছড়াতে একের পর এক প্রতিষ্ঠান গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে আব্দুর রাজ্জাকের সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ১৯৭০ সালে তিনি নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়। সে সময় গ্রামাঞ্চলে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি পরবর্তী সময়ে এলাকার বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় হয়ে ওঠে। সরকারি শিক্ষা-তথ্যেও বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি মুরাদনগরের বিষ্ণুপুর এলাকায় একটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা বিস্তারের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রামের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর ১৯৮৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিষ্ণুপুর রহমানীয়া সাঈদীয়া মুকবুলিয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ‘দীনিয়া মাদ্রাসা’ নামে পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর উদ্যোগ একজন ব্যক্তি হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল—তিনি শুধু নিজের শিক্ষাজীবন বা পেশাগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং একটি গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের জন্যও একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। স্মরণীয় হয়ে থাকবে শিক্ষা-দর্শন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের জন্য কয়েক দশক আগে যে উদ্যোগ আব্দুর রাজ্জাক নিয়েছিলেন, তার সুফল পেয়েছে পরবর্তী প্রজন্ম। একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় যে অবদান রেখে গেছেন, সেটিই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। মানুষের জীবন একসময় থেমে যায়, কিন্তু একটি ভালো উদ্যোগের প্রভাব থেমে থাকে না। আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও তাঁর সেই অবদানের স্মারক হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা দিয়ে যাবে। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আব্দুর রাজ্জাকের কর্মময় জীবন দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Post media
ট্যাগসংবাদ
2 লাইক1 মন্তব্য
0 শেয়ার260 ভিউ

এই পোস্টটি যে গ্রামের

🏡

এলাহাবাদ- গ্রাম

গ্রামের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও দর্শনীয় স্থানের তথ্য দেখুন।

গ্রামের প্রোফাইল দেখুন

আরও পোস্ট

গ্রামের মানুষের লেখা আরও কিছু গল্প ও মুহূর্ত।

সব পোস্ট দেখুন